তপ্ত কড়াই অথবা আগুনে ঝাঁপ !

আমাদের দেশে ঘুস খাওয়া এবং  খাওয়ানোটা হাঁচি -কাশি , শ্বাস -প্রশ্বাস , জন্ম -মৃত্যু  — এগুলোর মতো খুব স্বাভাবিক ব্যাপার । আর তাই এদেশে অমুক -বাবু টাকা খেয়েছে বলে প্রচার করবার আর সেটাকে বিশ্বাসযোগ্য করবার জন্য বিশেষ কিছু কসরত করতে হয় না । আম জনতা এসব গেলবার জন্য সব সময় হাঁ  করেই আছে । তাদের কাছে ট্রাফিক -সিপাই থেকে দারোগা বাবু  , পুরসভা থেকে বিদ্যুৎ দপ্তরের টেবিল আলো করা বাবুদের প্রসারিত হস্ত , স্কুল -কলেজে ছেলেপুলেদের ভর্তি করাতে গিয়ে ‘ আইন সম্মত ‘ ঘুষ দেওয়াটা এত স্বাভাবিক নিয়ম যে , নেতারাও এ ব্যাপারে সমান দড় বললে লোকে এক কথায় বিশ্বাস করে । কারণ ওটাই যে নিয়ম — ব্যতিক্রম আর কজন ?

দিল্লিতে ইউপিয়ে-র ক্ষেত্রে ঠিক সেটাই হচ্ছে । একের পর এক কেলেঙ্কারি ফাঁস হয়ে চলেছে আর এক একজন মন্ত্রী -নেতা জেলে ঢুকেছেন । কেউ তখন চোখ বন্ধ করে ছিল না — আর তাই আমজনতা রামদেবের সভায় ভিড় করেছে , আন্নার কথায় হাততালি দিয়েছে ।

ছোটখাটো দুর্নীতি যে একটা ভোটে বড়সড় ইস্যু হতে পারে , তার প্রমাণ কম মেলেনি আগে । বিরোধীরা সবার আগে ওই ইস্যুটাই হাওয়ায় ভাসিয়ে দেয়  — প্রমাণ মিলুক বা না মিলুক , লোকে গপাগপ খেয়ে নেয় । কখনও লেগে যায় , কখনো তেমন লাগে না ।


মনমোহনকে শূলে চাপিয়ে তেল গরম করছেন যারা , তারা নিজেরা কতটা সাফ সুতরও ? যারা পেছন থেকে হাওয়া দিচ্ছে , তারাই বা কোন আগমার্কা তুলসীপাতা ? শেষ পর্যন্ত মুস্কিল আমাদের মত পাতি পাবলিকের । সব কেমন যেন গুলিয়ে যায় ! ইউপিএ চোর -ডাকাত হলে এনডিএ কি ছিল ? সে আমলেও তো কেলোর কীর্তি কম হয় নি ! নেতারা পাবলিককে যতই গোরু – ভেড়া ধরে নিক , তারা কিন্তু দিব্বি মনে রেখেছে জর্জ ফারনানডেজকে কেন মন্ত্রীত্ব ছেড়ে দিয়ে কার মুখ বাঁচাতে হয়েছিলো , স্পাই ক্যামেরায় বঙ্গারু লক্ষ্মণের কোন কীর্তিটি ধরা পড়ে গিয়েছিল ! আর সিপিএম এ পোড়া বাংলার কি হাল করে গেছে তিন দশক ধরে তা তো এ রাজ্যের লোক হাড়েহাড়ে টের পেয়েছে ।

    ‘ গোরু – ভেড়া ‘দের স্মৃতি সংক্ষিপ্ত — এটা প্রমাণিত সত্যি হলেও তা কি এতটাই কম যে তারা সব ভুলে মেরে দেবে ?

 

Advertisements