বাঙলাভাষী মুসলমান – বঞ্চনার বারমাস্যা

পরিবর্তিত সরকারের বর্ষপূর্তি পেরিয়ে গিয়েছে দু’মাস হল — দেখা যাচ্ছে বাংলায় যেভাবে উর্দু-ওয়ালাদের নিয়ে  আগের সরকার মেতে ছিল  সেই একই ছবি নয়া সরকারের রাজত্বে সমান গুরুত্বসহ বিরাজমান ।

কিন্তু প্রকৃত ঘটনা হল রাজ্যের পালাবদলের জন্য সাধারন সচেতন কৃষক থেকে শুরু করে  শহুরে মুসলিমদের  ভোটব্যাঙ্কের অকৃপণ এবং এককাট্টা সমর্থনই প্রত্যাশিত ‘পরিবর্তন’-এর গতিপথকে মসৃণ করে দিয়েছিল । বর্তমান শাসকদল সেটা এত তাড়াতাড়ি ভুলে গেলে পরে আফসোস করেও লাভ হবে না । অবাঙালী মুসলিমদের মধ্যে যেসব নেতা – নেত্রী আছেন বা মন্ত্রী হয়েছেন তাঁদের মধ্যে অনেকেরই গ্রামবাংলার সাধারন গরিব মুসলিম ও অন্য সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে তেমন যোগাযোগ নেই বললেই চলে ।

এর পাশাপাশি আরও একটা ব্যাপার দেখা যাচ্ছে । কিছু ‘ গাঁয়ে  মানে না আপনি মোড়ল ‘ লোকজন বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বিষয়ে নাক গলিয়ে নেতা হতে মরিয়া চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন । এইসব ‘ধর্ম কসাই’-দের সঙ্গে বৃহত্তর অনগ্রসর সমাজ ও শিক্ষিত সচেতন সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের মানুষরা সহমত পোষণ করেন না ।

ইসলাম দর্শনের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ গড়ে না উঠলে এবং নিজের জীবনাদর্শে ইসলামি মূল্যবোধকে ফুটিয়ে তোলার শিক্ষা না পেলে মুসলমানরা ক্রমশই মগরাহাটের বিষ মদ কাণ্ড বা পার্ক স্ট্রিটের ধর্ষণ কাণ্ডের মত আরও অনেক অনাসৃষ্টিতে জড়িয়ে পড়বে । মুক্তচিন্তার মুসলিমরা এই অবক্ষয় দেখে যথেষ্ট চিন্তিত ও উদ্বিগ্ন  । রাজ্যের সচেতন সাধারণ মুসলিম ও অনগ্রসর শিক্ষিত সমাজ কখনই চান না আলিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে  ‘মাদ্রাসা’ ও ‘মুসলিম’ শব্দটি যুক্ত হোক । কিন্তু ধর্ম ব্যবসায়ীরা চাইছেন যুক্ত হোক । তাঁরা ভালো ভাবেই জানেন যে ওই শব্দ যুক্ত হলে ধর্মীয় সেন্টিমেনটকে কাজে লাগিয়ে মানুষ ঠকানোর ব্যবসাকে আরও প্রসার ও চরিতার্থ করা যাবে । ‘ধর্ম কসাই’দের মুখ চেয়ে সাম্প্রদায়িক সুড়সুড়ির বার্তা সুনিশ্চিত করতে রাজ্য সরকার যখন মদত দেয় তখন আম জনতাকে সচেতন হয়েই রুখে দাঁড়াতে হয়  । সেটা না করতে পারলে ওইসব নোংরামি চলতেই থাকবে । প্রকৃত উন্নয়ন থেকে যাবে বিশ বাঁও জলে ।         

Advertisements