তেলা মাথায় তেল দিন !

পেট্রোলের বিশেষ করে ডিজেলের দাম বাড়ানোর কথা উঠলেই রে রে করে ওঠেন — বিরোধীরা তো বটেই , সরকার পক্ষের লোকেরাও । পৃথিবীর অধিকাংশ দেশেই এমনকি আমাদের প্রতিবেশী দেশগুলিতেও ডিজেল ও পেট্রোলের দামের ফারাক নেই । আমাদের দেশে আছে , এবং বেশ খানিকটাই আছে । গণ পরিবহনে ডিজেলে বেশি ভরতুকি দেওয়ার প্রস্তাব ওঠে — ভাবনাটা এই রকম , ডিজেলের দাম বাড়লে মুদ্রাস্ফীতি বাড়ে । ভাবনাটা ফেলে দেওয়ার নয় । কিন্তু আমাদের দেশের শিল্পপতিরা এই ভাবনাটাকেই কাজে লাগাচ্ছে নিজেদের স্বার্থে ।

কি ভাবে ? ডিজেলের একটা বড় অংশই ব্যবহার করছে বেসরকারি মোবাইল কোম্পানিগুলি  – তাদের জ্বালানী খরচ কমিয়ে তা মুনাফায় পরিনত করতে ! ধনীরা  বেশি বেশি করে ডিজেল মোটর গাড়ি ব্যবহার করছে । অথচ এক লিটার পেট্রোলের তুলনায় এক লিটার ডিজেল পোড়ালে দূষণ ছড়ায় ঢের বেশি ।

তাহলে ব্যপারটা কি দাঁড়াচ্ছে ? আমরা দূষণ ছড়াতে ধনীদের ভর্তুকি দিচ্ছি গরিবদের বাঁচানোর নাম করে !

এহ বাহ্য , একটু দৃষ্টি ফেরানো যাক প্রাসঙ্গিক আরেকটি বিষয়ে ।

ভর্তুকির বোঝা বইতে গিয়ে দেশের দেশের তেল ও গ্যাস কোম্পানিগুলির ভাঁড়ারে টান পড়ছে , লোকসান বাড়ছে । অনেকেই বলছেন , তেল কোম্পানিগুলি দক্ষতা বাড়িয়ে লোকসান কমাক । তারা একেবারে যে অযৌক্তিক কথা বলছেন তা নয় । বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলির তুলনায় দেশি তেল কোম্পানিগুলির দক্ষতা যে কম তা বলার অপেক্ষা রাখেনা । আবার প্রতিযোগিতার মুখে পড়ে তাদের দক্ষতা যে বেড়েছে তাও মানতে হবে । কিন্তু এখানে একটা বিষয় সম্ভবত সমালোচকদের নজর এড়িয়ে যাচ্ছে  — প্রতিযোগিতার বাজারে দেশি তেল কোম্পানিগুলি যদি আর্থিক ভাবে দুর্বল হয়ে যায় , তারা যদি অর্থাভাবে নতুন শোধনাগার তৈরি করতে ও পুরানোগুলিতে আধুনিক প্রযুক্তি বসাতে না পারে তাহলে তাদের ক্রমশ পিছু হটতে হবে আর তার ফয়দা তুলবে বহুজাতিক তেল কোম্পানিগুলি । প্রশ্ন হল  : তেমনটা কি হতে দেওয়া উচিৎ ?   

Advertisements