শাহবাগের বজ্র নির্ঘোষ

SAHOBAAG ANDOLON – BANGLA ARTICLEশাহবাগের বজ্র নির্ঘোষ

 

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের সময়ে জামাত- ই – ইসলামি সংগঠনের সঙ্গে সংযোগ ঘটে পাকিস্থানপন্থি ঘাতক বাহিনী রাজাকরদের । পাক সেনাদের সঙ্গে হাত মিলিয়ে নির্বিচার গণহত্যায় তাদের সহায়তা করে । তারপর কয়েক দশক কেটে গেছে । আইনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী খুনের মামলা তামাদি হয় না । অন্যদিকে নৈতিকতা বলে পাপের শাস্তি ইহজীবনেই ভোগ করতে হয় । বিশেষ করে , নরহত্যা সংক্রান্ত বিষয়ে মানুষের এই রকমের বিশ্বাস প্রায় সর্বজনীন । ঢাকার শাহবাগ মোড়ে সংগঠিত দলমত নির্বিশেষে যে জনসমাবেশ থেকে একাত্তরের হত্যাকারীদের ফাঁসির দাবী উঠেছে , তার অন্তঃস্থলে একযোগে ক্রিয়াশীল রয়েছে আইনের প্রতি আস্থা ও নৈতিকতার প্রতি গভীরতর বিশ্বাস । সেই বিশ্বাস এতটুকু চিড় খায়নি ব্লগার রাজীব ওরফে আহমেদ রাজীব হায়দারের মৃত্যুতে । সারাদেশের মানুষ এই মুহূর্তে লক্ষ রাজীবের অনিরবাপিত আত্মার শরিক , দেশকাল অতিক্রম করে যেসব রাজীবরা প্রাণের মায়া তুচ্ছ করে শুধুমাত্র নিজস্ব বিশ্বাসকে  ব্যক্ত করার জন্য ।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক প্রজন্মের এই আন্দোলন এই মুহূর্তে বিস্বাইত হয়ে গেছে । সোশ্যাল নেটওয়ার্ক -এর মাধ্যমে আবিস্ব বাঙালির কাছে ছড়িয়ে পড়েছে নতুন জেগে ওঠা চেতনার বার্তা ।

নবীন প্রজন্মের এই হঠাত জেগে ওঠা আদৌ আকশমিক নয় । একাত্তরের আগুন বাংলাদেশের রাজনৈতিক চাপান-উতরে নিভে যায়নি কখনোই , তার প্রমাণ এই প্রজন্ম রেখেছে । একাত্তর – গণহত্যার ফলে সে দেশের সামগ্রিক সংগঠনেই যে এক শূন্যতা বিরাজ করছে , তা এই প্রজন্ম অনুভব করেছে মর্ম দিয়েই । সে দেশের সাহিত্য , চিত্রকলা , চলচিত্র ইত্যাদি গত চার দশক ধরে এই শূন্যতার কথাকেই জয়ীয়ে রেখেছে , এক প্রজন্ম থেকে আরেক প্রজন্মে হস্তান্তরিত করেছে ।

শাহবাগের এই আন্দোলন যেন আরব বসন্তের , অকুপাই ওআল স্ট্রিট আন্দোলনের আর এক নতুন অধ্যায় , যা ধারণ করে রেখেছে অসংখ্য সম্ভাবনার বীজ । কোন হত্যা , কোন প্ররোচনা দমাতে পারবেনা এই জাগ্রত চৈতন্যকে । এই চৈতন্য বাঙালির নিজস্ব অর্জন , যা খুঁজে নেবে ইতিহাসের উপসংহারকে । এখন প্রয়োজন প্রতীক্ষার । যার পিছনে রয়েছে আবিস্ব বাংলাভাষীর একীভূত আবেগ । জয় বাংলা ।

Advertisements