গাছের এবং তলার

গাছের এবং তলার

 

 

 

 

বিশ্বের উল্লেখযোগ্য গনতন্ত্রগুলির অন্যতম ভারত । এদেশের সুবিশাল রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে , বিভিন্ন দল ,বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন মতবাদের আশ্রয় নিয়েছে । যেমন বামপন্থীরা সেই কোন প্রাচীনকাল থেকে মার্ক্স ও লেনিনবাদে মগ্ন থেকেছেন ও সেই মতবাদ অনুসারে দেশ উদ্ধারের ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে  গিয়েছেন , প্রয়োজনে অদল-বদল ঘটিয়ে নিয়েছেন তারা । কংগ্রেসিরা বরাবরই এই পোড়া দেশের চাষাভুষো ও আম -আদমির কথা মাথায় রেখে তাঁদের মতবাদকে এগিয়ে নিয়ে গেছেন ।বিজেপি একটু অন্য পথে দেশের ধর্মীয় ভাবাবেগকে কেন্দ্র করে তাদের মতবাদ স্থির করে এসেছে । তৃণমূল কংগ্রেস মা- মাটি -মানুষের উন্নতি সাধনে তাদের নীতি নির্ধারণ করে এসেছে বরাবরই ।ভারতীয় রাজনীতিতে আরও একটি মতবাদ ইদানীং বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে , তা হল ‘ সুবিধাবাদ ‘ । এই সুবিধাবাদীদের কোনও নিজস্ব মতবাদ নেই , এঁরা যেদিকে পাল্লা ঢলে , সেদিকেই অতি সুন্দরভাবে ঢলে পড়েন । তার জন্য এঁদের মানুষের কাছে কোনও জবাবদিহি করার প্রয়োজন হয় না , প্রয়োজন হয়না আয়নার সামনে দাঁড়ানোরও । কারণ এঁদের কাছে মনুষ্য -আত্মা বলে কিছু নেই ।

পশ্চিমবঙ্গে এমন এক গোষ্ঠীর নাম গোর্খা জনমুক্তি মোরচা। কিছুদিন আগেই এঁরা মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দো পাধ্যাএর সঙ্গে এমন মিষ্টিমুখে কথা বলতেন যেন এঁরা তৃণমূল কংগ্রেসেরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ । অতঃপর , মুখ্যমন্ত্রীর কাছ থেকে যাবতীয় সুযোগ -সুবিধা নিংড়ে নেওয়ার পর , এঁরা আসল রূপ দেখানো শুরু করলেন । এখন এঁরা দীপা দাস মুন্সীকে মুরুব্বী ধরে দিল্লী গিয়ে ধর্না দিচ্ছেন ও মমতার বিরুদ্ধে অনবরত তোপ দাগা শুরু করেছেন । সেইসঙ্গে আব্দার ধরেছেন রাজ্য প্রশাসনকে এড়িয়ে কেন্দ্রীয় বরাদ্দের টাকাকড়ি সরাসরি তাঁদের হাতে তুলে দিতে ! ( বুঝ জ্ঞানী যে জান সন্ধান ! ) অন্ধ মমতা -বিরোধিতার মোহে হিতাহিত জ্ঞানশূন্য দীপাও সম্ভবত খেয়াল করছেন না যে তাঁর এই কালিদাসি কার্যকলাপ সতর্কভাবে লক্ষ্য রেখে চলেছেন এই বাংলার মানুষজন ( তথা আসন্ন পঞ্চায়েত নির্বাচনের ভোটাররা ) ।

তো এই হল এঁদের স্বরূপ ! ভারতের ইতিহাসে বিভীষণ থেকে মীরজাফর , বিশ্বাসঘাতকতার ঐতিহ্য চিরকালীন । কিন্তু এবার আর কোনও একক ব্যাক্তি নয় , বরং গোটা একটা রাজনৈতিক দলই সেই ঐতিহ্যের পথে । গাছের খাবো আর তলারও কুড়বো — এই মনোভাব নিলে দার্জিলিং পাহাড় থেকে হরকাবাহাদুরদের পা হড়কাতে বেশি সময় লাগবে বলে মনে হয় না ।

Advertisements